সিলেট সীমান্তে বিজিবি’র বড় অভিযান: অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ও গবাদিপশু জব্দ | BGB Raid at Sylhet Border

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ১২ এপ্রিল, ২০২৬

সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি মূল্যের ভারতীয় চোরাই পণ্য ও গবাদিপশু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) দিনভর সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

অভিযানের বিস্তারিত

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪৮ বিজিবি-র অধীনস্থ বাংলাবাজার, শ্রীপুর, দমদমিয়া, তামাবিল, সোনারহাট এবং প্রতাপপুর সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) সদস্যরা এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ভারত থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ পণ্য উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত পণ্যের তালিকা

উদ্ধারকৃত চোরাই পণ্যের মধ্যে রয়েছে:

  • গবাদিপশু: বিপুল সংখ্যক ভারতীয় গরু এবং মহিষ।
  • খাদ্যদ্রব্য ও মসলা: ভারতীয় জিরা, চিনি এবং প্যাকেটজাত খাদ্য সামগ্রী।
  • বস্ত্র ও অন্যান্য: উন্নত মানের থান কাপড়, দামী শাড়ী এবং কম্বল।
  • বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে জব্দ: শুধু ভারত থেকে আসা পণ্যই নয়, বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সুপারি, শিং মাছ এবং রসুন জব্দ করে বিজিবি সদস্যরা।

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৬১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮০০ টাকা

বিজিবি-র বক্তব্য

সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত টহল বৃদ্ধির ফলেই এই বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্তে মাদক, গবাদিপশু এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ বন্ধে আমাদের এই আভিযানিক কার্যক্রম কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।”

সীমান্তে কঠোর নজরদারি

উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট সীমান্ত দিয়ে চিনি, কাপড় এবং মহিষ চোরাচালানের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিজিবি তাদের টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে দুর্গম সীমান্ত পথগুলো ব্যবহার করে চোরাকারবারীরা যাতে সক্রিয় হতে না পারে, সেজন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

জব্দকৃত পণ্যসমূহ বর্তমানে বিজিবি-র হেফাজতে রয়েছে এবং বিধি মোতাবেক বিভাগীয় কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।