
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
দেশে হামের (Measles) ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এই বিস্তারে এ পর্যন্ত শতাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং প্রাণহানির সংখ্যা বিবেচনায় দেশজুড়ে জরুরি ভিত্তিতে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ও দ্রুত পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম মারাত্মক প্রাদুর্ভাব। আক্রান্ত এলাকাগুলোর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে শয্যা সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রাণঘাতী এই সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সারা দেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
জরুরি টিকাদান কর্মসূচির রূপরেখা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) উদ্যোগে প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে:
- লক্ষ্যমাত্রা: ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে এই জরুরি টিকার আওতায় আনা।
- কার্যক্রম: নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং বিশেষায়িত মোবাইল টিমের মাধ্যমে এই টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
- নির্দেশনা: যেসব শিশু এর আগে হামের রুটিন টিকা নিতে পারেনি বা বাদ পড়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লক্ষণ ও করণীয় চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুর শরীরে অতিরিক্ত জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীর ও মুখে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
“হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশুদের থেকে আলাদা রাখা অত্যন্ত জরুরি। গুজবে কান না দিয়ে দ্রুত আপনার শিশুকে টিকা দিন। একমাত্র শতভাগ টিকাদানই পারে এই প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব থেকে শিশুদের রক্ষা করতে,” — জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম এবং কমিউনিটি লিডারদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
